Home / জাতীয় / নিরাপদ সড়ক প্রধানমন্ত্রীকে উপায় বলতে চান মিমের বাবা

নিরাপদ সড়ক প্রধানমন্ত্রীকে উপায় বলতে চান মিমের বাবা

ঢাকার ডাক ডেস্ক :  পরিবহন খাতে নৈরাজ্য আর দুর্ঘটনার কী কী কারণ আছে, সেটি চালক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলতে চান বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম।

গত রবিবার তার মেয়েসহ শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তোলপাড় চলছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা তিন দিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখে নয় দফা দাবি জানায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এর মধ্যে মিমের বাসায় গিয়ে তার স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পরিবহন শ্রমিকদের নেতা নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিএনপির নেতারা।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিমের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। সেখানে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী চালকের বিচারের পাশাপাশি মিমের ভাই বোনের পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার কথাও জানিয়ে আসেন মন্ত্রী।

এই আলোচনায় মিমের বাবা মন্ত্রীকে জানান কী কী কারণে সড়কে নৈরাজ্য চলছে। আর এগুলো দূর করতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। আর মন্ত্রী জানান তারা কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

মিমের বাবা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি একটু দেখা করতেন আমি তাকে আমার অভিজ্ঞতা থেকে সড়কে অব্যবস্থাপনার কথা বলতাম। তাতে যদি সরকারের লাভ হতো তাহলে আমার মেয়ে হারানো দুঃখ কমত।’

‘আমি ন্যায্য বিচার চাই। আমার এক সন্তান হারিয়ে লাখো লাখো সন্তান পেয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই। তাকে কিছু কথা বলতে চাই। অবৈধ অদক্ষ চালকরা যাতে স্টিয়ারিংয়ে বসতে এবং রাস্তাঘাটে না বসতে পারে, কোনো মায়ের কোল যাতে খালি না করে সেটা আমি দেখতে চাই।’

‘তাই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি করেছি, নৌ-মন্ত্রীর কাছে দাবি করেছি। সে আমার শ্রমিক নেতা; তাকে আমি বলেছি আপনারা ইচ্ছে করলে এসব অব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে পারেন। এতে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ না হলেও অনেকটা কমে আসবে।’

সড়ক দুর্ঘটনায় নানা কারণ আছে। এর মধ্যে সড়কের প্রকৌশল ত্রুটি, সরু সড়ক, যানবাহনে ত্রুটি, ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, মহাসড়কে ধীর গতির গাড়ির জন্য আলাদা লেন না থাকা, পথচারীদের অসচেতনতা, মাত্রাতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্টিয়ারিংয়ে বসাসহ নানা কারণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এসবের আলোকে নানা পরামর্শ দিয়ে আসছেন বহু বছর ধরেই আর সরকারও নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কোনো কোনো দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়তে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। কিন্তু সার্বিকভাবে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাটি এখনও উদ্বেগজনক।

দূরপাল্লায় বাস চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে জাহাঙ্গীর আলমও জানেন কী কী করলে দুর্ঘটনায় রাশ টানা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘সাভার-নবীনগর একটা মোবাইল কোর্ট বসাক। আমি সব পয়েন্ট দেখায় দিমু। দেখবেন অটোমেটিক ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। দেখবেন সব লক্কর-ঝক্কর বাস লোহার দরে বিক্রি করে দিবে।’

‘রাজধানীর বাইরেও বহু ঘটনা ঘটে। আরিচা রোডে যে মিশুক মনির সাহেব মারা গেলেন এসব রোডে কিন্তু এখন পর্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত বুদ্ধিজীবীরা নিতে পারেনি। আমি একজন ড্রাইভার আমার অনেক বছরের অভিজ্ঞতা আছে; আমার এসব কথা যদি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলার পর কাজে লাগে আমার মেয়ে হারানোর কষ্ট কমবে।’

মিমের বাবা বলেন, ‘বাসের সাথে ট্রাক ধরতে হবে। হাজার হাজার ট্রাক চালক রাত হলেই হেলপারদের (সহযোগী) চালাতে দিয়া তারা ঘুমিয়ে পরে। এতে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।’

‘আমি রাস্তায় চলি, আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে। আজ ২৬ বছর ধরে আমি পরিবহনের সাথে জড়িত। আমি এগুলো জানি, বুঝি। আমার মেয়ে মারা গেছে এই উসিলায় এদেশের সড়কের অবস্থাপনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে আমি মনে করি।’

নগর পরিবহনে স্কুল বাস সংযোজনের যে পরামর্শ দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা দিয়ে আসছেন, সেটি বললেন নিহত মিমের বাবাও। বলেন, ‘সরকার যদি স্কুল কলেজের পোলাগোরে ভালোবাসে; এরা ভবিষ্যত মনে করে, তাহলে স্কুল কলেজে যেখানে যেখানে গাড়ির দরকার সেখানে বিআরটিসি দিয়া দিক। অভিভাবকদের স্কুলে পাঠিয়ে ভাবতে হবে না সাথে যেতে হবে না। বিআরটিসি বাসগুলো স্কুল কলেজে পোলাগেরে দিয়ে আসবে নিয়ে আসবে।’

‘এটা যদি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বললে তিনি কি একটু বিবেচনা করবে না? ধনী-গরিব সবার পোলাপান স্কুল কলেজের পড়ালেখা করে। কেউ টঙ্গী যায় কেউ মহাখালী যায়। ওই দিক দিয়ে একটা গাড়ি এই দিক দিয়ে একটা গাড়ি যেয়ে একটা গাড়ি নামিয়ে দিল আরেকটা গাড়ি নিয়ে এলো। আমি প্রধানমন্ত্রী এই কথাগুলো বললে কি গ্রহণযোগ্য হবে না?’

ছাত্র বিক্ষোভের কথা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী রাস্তায় নামছে কোন দুঃখে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) একটু দেখেন। আপনি কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন ফান্ডে দিতেছেন। এদের জন্য একটু কিছু দেন। তাহলে সবার বাবা মা টেনশনে থাকবো না, কারও আমার মেয়ের মত জীবন হারাতে হবে না।’

Check Also

মেঘনা দখল-দূষণরোধে ১১ কোটি টাকার মাস্টারপ্লান : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     রাজধানীর খালসমূহ দখলমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে হাতিরঝিলের আদলে গড়ে তুলতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *