Thursday , October 18 2018
Home / রাজনীতি / ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব এক ব্যক্তি ও দলের : গয়েশ্বর

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব এক ব্যক্তি ও দলের : গয়েশ্বর

ঢাকার ডাক ডেস্ক :  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব নয়, বন্ধুত্ব হলো একজন ব্যক্তি ও একটি দলের। কারণ কোনো দেশ তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারে না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে দেশের জনগণ না চাইলেও আমাদের প্রতিবেশী দেশ তাকে (শেখ হাসিনা) চায়। আমাদের এতেই সন্তুষ্ট হতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশের খুশির জন্য এদের ক্ষমতায় রাখতে হবে।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা তো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। একাত্তরে তারা আমাদের পাশে ছিল। এজন্য তাদের বন্ধুত্ব অতি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ তো এ বন্ধুত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ওরাও একটা সময় ভারতের কথা শুনতো, কিন্তু এখন তারা ভারতের ধার ধারে না। ভারত আগে যা দিয়েছিল তা-ও ফিরিয়ে নিতে বলছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। অতএব জনগণের ওপর চোখ রাঙাবেন না। আপনাদের সম্পত্তি দিয়ে আপনারা বেতন পান না। আপনারা জনগণের সেবক, সেই জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো আপনারা জনগণের সঙ্গে চোখ রাঙাবেন না।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী করার জন্য নিয়মনীতি বাদ দিয়ে আপনারা কাজ করবেন না। যাকে বাঁচাতে চান তিনি যখন খাদে পড়বেন আপনারা তখন যাবেন কোথায়? রাজনীতিবিদরা আপনাদের কিছু বলবে না। কিন্তু জনগণ যারা সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা যদি হাত তুলে তাদের থামাবে কে? সেজন্য বলব যার যা দায়িত্ব সেভাবে পালন করুন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা ভারত সফর শেষে এসে বললেন দিল্লী বিএনপিকে পাত্তা দেয় না। বিএনপিকে পাত্তা দিক বা না দিক আপনাদের কি? মালদ্বীপ তো দিল্লিকে পাত্তা দেয় না। তা তো বলবেন না। আর তাছাড়া দিল্লি তো বাংলাদেশের মালিক না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য যেই কাজ করুক না কেন তাদের বিশ্ব দরবারে একদিন আসামি হয়ে দাঁড়াতে হবে।

গয়েশ্বর বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাব না। আজ যদি খালেদা জিয়াকে ছেড়ে দিয়ে সরকার কাল নির্বাচন দিয়ে দেয় তবে কি সেই নির্বাচনে আমরা যাবো? খালেদা জিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক হলো গণতন্ত্রের, তিনি রাজনৈতিকভাবে জেলে গেছেন, রাজনীতিকভাবেই মুক্ত হবেন। এটা সবাই জানেন। খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রে যদি জনগণ ভোট দিতে পারে তারা খালেদা জিয়ার ওপরে অসন্তুষ্ট হবে না। সুতরাং খালেদা জিয়া ছাড়া এদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না।’ খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। সেই জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি জাতির জন্য অপরিহার্য।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ার সরকারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা ও ঢাকা মহানগর মৎসজীবী দলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া প্রমুখ।

Check Also

জোটের পরিসর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে : কাদের

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :    নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে দলের সংখ্যা বাড়বে কিনা এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *