Home / মহানগর / গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন মামলার জালে হাসান, সম্পদে এগিয়ে জাহাঙ্গীর

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন মামলার জালে হাসান, সম্পদে এগিয়ে জাহাঙ্গীর

ঢাকার ডাক  ডেস্ক : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের নামে কোনো মামলা নেই। দুই মামলার জালে আছেন বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থীই সম্পদের দিক দিয়ে বিত্তশালী। আর এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেয়া হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীসহ নয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

হলফনামা অনুসারে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম অন্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশি সম্পদের মালিক। তৈরি পোশাক কারখানা, ব্যবসা ও কৃষি খাতসহ তার সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৬ টাকা। এ সম্পদের বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার। পেশায় তারা দুজনই ব্যবসায়ী, আর দুজনেরই রয়েছে দায়দেনা। জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, আর হাসান সরকারের প্রায় ১১ লাখ টাকা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, মনোনীত নয়জন মেয়র পদপ্রার্থীর সবাই শিক্ষিত। এর মধ্যে প্রধান দুই প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এমএ (স্নাতকোত্তর) ও হাসান সরকার বিএ (স্নাতক) পাস। অন্য সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজন শিক্ষক, দুজন চাকরিজীবী ও একজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম
হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুসারে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয় ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর বাইরে রয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ শতাংশ কৃষি ও অকৃষি জমি। অন্যদিকে দেনা রয়েছে ৮ কোটি টাকা। রয়েছে একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল, দুটি গাড়িসহ আসবাবপত্র। আইন অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ব্যয় ৩০ লাখ টাকা ও প্রার্থীর ব্যক্তিগত ব্যয় দেড় লাখ টাকা। তার ওপর নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তির আয় দেখানো হয়নি হলফনামায়।

হলফনামা দেখতে ক্লিক করুন

হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাঙ্গীর আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অতীতে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে দুটি মামলা ছিল। একটিতে খালাস ও অপরটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয়ের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ই ধারায় অর্জিত দেখিয়েছেন। এ ছাড়া কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেড় লাখ টাকা। বাড়ি ও দোকান ভাড়া পান ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

হলফনামায় জাহাঙ্গীর আলম পেশায় ব্যবসায়ী উল্লেখ করলেও অনারেবল টেক্সটাইলস কম্পোজিট এবং জেড আলম অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অনারেবল টেক্সটাইলস কম্পোজিটে তার শেয়ার রয়েছে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও জেড আলম অ্যাপারেলসে শেয়ার মাত্র ২০ হাজার টাকার।

তার সম্পদের মধ্যে নগদ টাকার পরিমাণ ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ব্যাংকে তার জমা রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭১ টাকা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন ৭৫ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৭ টাকা। আর সঞ্চয়পত্র আছে ১০ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ শতাংশ জমি। এর মধ্যে কৃষিজমি ১ হাজার ৪৯৫.১৫ শতাংশ, অকৃষি জমি ৩৩ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং আবাসিক/বাণিজ্যিক জমি ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জমি বিক্রয়ের জন্য বায়না বাবদ ৮ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে তার।

হাসান উদ্দিন সরকার
দুটি মামলার অভিযুক্ত হাসান উদ্দিন সরকার সোমবার আদালতে আসেন হাজিরা দিতে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি একজন প্রার্থী হিসেবে মামলার হাজিরা দিতে আদালতে এসেছি। নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত থাকলে নির্বাচনের কাজ করা কতটা কষ্টকর এটা সবাই জানেন। তবে মানুষ এ সিটি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।’

হলফনামা দেখতে ক্লিক করুন

হলফনামা অনুসারে, বিএনপির এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা। নিজের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ টাকা ও স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ টাকা। এর বাইরে দুজনের ৫৩ তোলা স্বর্ণ, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। এ ছাড়া হাসান সরকার তার নিজের নামে একটি পিস্তল ও একটি শর্টগান এবং স্ত্রীর নামে একনলা বন্দুক রয়েছে বলে  হলফনামায় উল্লেখ করেন।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে হাসান সরকারের নামে ৫৯৮ শতাংশ ও তার স্ত্রীর নামে ৩০৫ শতাংশ জমি রয়েছে। আর স্ত্রীর নামে রয়েছে একটি চারতলা বাড়ি। হাসান সরকারের ঋণ রয়েছে ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

হাসান উদ্দিন সরকার একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি ও টঙ্গী থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা চলমান। দুটি মামলার একটি বিচারাধীন ও আরেকটি তদন্তাধীন। এ দুটি মামলা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৫ ও ২০১৮ সালে করা হয়েছে। এর আগে ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালে তার নামে তিনটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটিতে বেকসুর খালাস ও একটি খারিজ হয়েছে।

হাসান উদ্দিন সরকারের বার্ষিক আয়ের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পান ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাত থেকে ৬৩ হাজার, বাড়ি/দোকান/অন্যান্য ভাড়া ৫ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ও ব্যাংক সুদ বাবদ ১১ হাজার ৫২৬ টাকা আয় রয়েছে তার।

হাসান সরকারের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ টাকার। এর মধ্যে তার নগদ টাকা সাড়ে ৩ লাখ ও ব্যাংকে জমা ৬০ লাখ ৪৯ হাজার ৬০১ টাকা। রয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি। এ ছাড়া তার ২১ তোলা স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, ৫০০ দশমিক ৫৩১ শতাংশ কৃষিজমি, যার দাম দেখিয়েছেন ৯৪ হাজার ৪৬৪ টাকা। রয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতক জমিসহ ৫টি দোকান, ৯০ শতাংশ জমি ও স্থাপনা, টঙ্গীতে সেমিপাকা ৩২টি রুমের ঘর এবং একচালা টিনশেড। তার স্ত্রীর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৫৮ হাজার ৫৪২ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া তার নামে ২৯০০ বর্গফুটের চারতলা বাড়ি রয়েছে; যার দাম ৭৭ লাখ ৮৪ হাজার ১৮৮ টাকা। এ ছাড়া ৩২ তোলা স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, আসবাবপত্র ও একনলা বন্দুক রয়েছে।
জাসদ প্রার্থী রাশেদুল হাসান রানা
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) এই প্রার্থীর আয় ও সম্পদ দুটোই কম। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ টাকা। তবে তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে ৫ বিঘা জমি রয়েছে।

ফজলুর রহমান
ইসলামী ঐক্যজোটের এ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা দাওরায়ে হাদিস। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা নেই এবং অতীতেও ছিল না। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। রয়েছে ট্রাভেল এজেন্সি। তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আড়াই লাখ টাকা, এজেন্সির পরিচালক হিসেবে সম্মানী ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ওয়াজ-মাহফিল থেকে সম্মানী ৭৫ হাজার ৬০০ টাকা। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা ৫ লাখ টাকা, একটি প্রাইভেট কার, আসবাবপত্র, ২৭ শতাংশ অকৃষি জমি ও নির্মাণাধীন বাড়ি।

মো. নাসির উদ্দিন
ইসলামী আন্দোলনের এই প্রার্থী তাকমিল পাস। পেশায় শিক্ষক। তার বার্ষিক আয় সাড়ে ৮ লাখ টাকা। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নগদ ৩৮ হাজার ২৮০ টাকা, ব্যাংকে জমা ৬ লাখ ২১ হাজার ৭২০ টাকা ও আসবাবপত্র। এছাড়া ১৬৫ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে।

মো. সানাউল্লাহ
স্বতন্ত্র এই প্রার্থী কামিল পাস। পেশায় শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা দুটি মামলা বিচারাধীন। অতীতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে মোটরসাইকেল, স্বর্ণ ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে কৃষিজমি ১ বিঘা, অকৃষি জমি ৪ বিঘা ও একটি বাড়ি।

কাজী মো. রুহুল আমিন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এই প্রার্থী স্নাতক পাস। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান। আগে তিনটি মামলায় আসামি থাকলেও তা থেকে খালাস পেয়েছেন। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

ফরিদ আহমদ
স্বতন্ত্র এই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, অতীতেও ছিল না। পেশায় চাকরিজীবী। বার্ষিক আয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, সোয়া ২ কাঠা কৃষিজমি ও একটি বাড়ি। তার কোনো দায়দেনা নেই।

আজ সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইযের দ্বিতীয় ও শেষ দিন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয় বিকেল পাঁচটায়। ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ এবং ১৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। ৫৭টি ওয়ার্ডে ৪২৫টি ভোটকেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নগরপিতা নির্বাচিত করবেন।

Check Also

গাজীপুর নির্বাচন : ৭ দিন আগে সেনা মোতায়েনের দাবি বিএনপি প্রার্থীর

ঢাকার ডাক  ডেস্ক : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সাত দিন আগে এলাকায় টহলসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *