Home / ধর্ম / ইতিহাসের বিস্ময় শবে মি’রাজ

ইতিহাসের বিস্ময় শবে মি’রাজ

ঢাকার ডাক  ডেস্ক : পবিত্র মক্কা থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণকে ‘ইসরা’ এবং মসজিদে আকসা থেকে উর্ধ্বে গমনকে ‘মিরাজ’ বলা হয়। পৃথিবী সৃষ্টি হতে কেয়ামত পর্যন্ত যত বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে বা ঘটবে তার মধ্যে মিরাজ অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা। মিরাজের সত্যতা সম্পর্কে আাল্লাহ তায়ালা বলেন, পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই আমি সর্বশ্রোতা ও সর্বদর্শী। (সূরা বনি ইসরাঈল-১) ।

পবিত্র কুরআনে অসংখ্য আয়াতে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন হযরত ইবরাহীম (আ) এর নমরুদের প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকু-ে নিক্ষিপ্ত হওয়া এবং দীর্ঘ ৪০ দিন পর আগুনের ভেতর থেকে পরিপূর্ণ সুস্থতার সাথে বের হওয়ার কাহিনী, হযরত ইউনুস (আ) এর ৪০ দিন মাছের পেটে জীবিত থাকার বিস্ময়কর কাহিনী, হযরত ঈসা (আ), হযরত মুসা (আ), হযরত লুত (আ) এবং কওমে আদ ও কাওমে সামুদের বিষ্ময়কর কাহিনী। এছাড়াও আরো অনেক বিস্ময়কর কাহিনী কুরআনে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু কোথাও ‘সুবাহানা’ শব্দ দিয়ে কাহিনী শুরু করা হয়নি। মেরাজ হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জীবনে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর ঘটনা তাই আল্লাহ তা’আলা সূরা বনী ইসরাঈলে মেরাজের ঘটনা বর্ণনা শুরু করেছেন বিস্ময়কর শব্দ ‘সুবহানা’ দিয়ে । (ফাতহুল বারী, ৭/২৩৮)।

বিজ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞানহীন আরবরাও রাসূল (সা) এর মিরাজ নিয়ে বিস্মিত হয়েছিল, হওয়াই স্বাভাবিক যে কিভাবে রাসূল (সা) মক্কা থেকে বায়তুল মোকাদ্দাস ১ হাজার ২৩২ কি: পথ রাতের সামান্য সময়ের মধ্যে সফর করে আবার মক্কায় ফিরে আসলেন। যে পথ অতিক্রম করতে তৎকালে সময় লাগতো ৪০ দিন। (তাফসীরে কাশশাফ,২/৪৩৬)।

বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগেও বিজ্ঞানীগণ যেখানে এখনো সূর্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি। সেখানে প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে কিভাবে রাসূল (সা.) চন্দ্র-সূর্য, মধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং লক্ষ কোটি গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, নীহারিকাপুঞ্জ, ধূমকেতু, ব্ল্যাক হোল ইত্যাদি পার হয়ে এক রাতে মিরাজ সম্পন্ন করেছেন। এ বিষয়ে চিন্তা গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে আল্লাহ পাকের মহা কুদরতের নিকট মাথা নত করছে। (আল কুরআন এন্ড আধুনিক বিজ্ঞান, পৃ:৩৫৭) ।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছে, পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। আর মহাকাশে সূর্যের চেয়ে শত শত কোটি গুণ বড় লক্ষ-লক্ষ তারকা রয়েছে। যে গুলো দূরত্বের কারণে খালি চোখে দেখা যায় না এবং পৃথিবী সৃষ্টির ১৫০০ কোটি বছর হতে আজ পর্যন্ত প্রতি সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল গতিতে তাদের আলো পৃথিবীতে আসতেছে কিন্তু এখনো এসে পৌঁছেনি। (আল কুরআন দ্যা চ্যালেঞ্জ, ১ খ-)। কতদূরে তাদের অবস্থান ভাবতেই অবাক লাগে। এ জাতীয় গ্রহ-নক্ষত্র সমূহের আরো অনেক ওপরে প্রথম আকাশের অবস্থান। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘আমি দুনিয়ার আকাশকে অসংখ্য তারকারাজী দ্বারা সুশোভিত করেছি’ (সূরা মুলক : ৫)। হাদীসে এসেছে এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের দূরত্ব ৫০০ আলোক বৎসরের রাস্তা। (তিরমিযী)।

এ বিশাল আকাশ পথ অতিক্রম করে সিদরাতুল মুন্তাহারও উপরে গিয়ে রাসূল (সা) মিরাজ সম্পন্ন করে রাতের সামান্য সময়ের ভিতর আবারও বায়তুল মোকাদ্দাস হয়ে কিভাবে মক্কায় ফিরে আসলেন বিষয়টি চিন্তা করলে বিস্ময়ে হতবাগ হয়ে মুখ থেকে একটি কথাই ভেসে আসে ‘সুবাহানাল্লাহ’।

Check Also

হজে গমনকারী ও দেশে অবস্থানকারী উভয়ের দোয়া

ঢাকার ডাক ডেস্ক :  হজে যাচ্ছে প্রিয়জন। একে অপরকে বিদায় জানাচ্ছে। বিদায় মুহূর্তে হজে গমনকারীর জন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *