Home / ক্যাম্পাস / কোটা সংস্কার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্বিতীয় দফা স্থগিত

কোটা সংস্কার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্বিতীয় দফা স্থগিত

ঢাকার ডাক ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিতের ঘোষণা এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটার সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছে ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তারা। এরপর তারা সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানান।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নূর, রাশেদ খান, ও ফারুক হাসান প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা জানান, আন্দোলন প্রত্যাহার বা বাতিল নয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা ব্যবস্থা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছেন তারা। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ বলেও অভিহিত করেন।

একইসঙ্গে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় করা সব মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়েকদিন পর তো আবার আরেক দল এসে বলবে, আবার সংস্কার চাই। তো কোটা থাকলেই সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোনও ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণ মানুষ বারবার কষ্ট পাবে কেন? এই বারবার কষ্ট বন্ধ করার জন্য আর বারবার এই আন্দোলন-ঝামেলা মেটানোর জন্য কোটা পদ্ধতিই বাতিল। পরিষ্কার কথা। আমি এটাই মনে করি, সেটা হলেই ভালো।’

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। তাদের প্রথম দাবি- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা গেজেট হিসেবে প্রকাশ করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয় দাবি- সারাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি। তৃতীয় দাবির মধ্যে রয়েছে, আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতনের’ শিকার শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে দ্রুত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। চতুর্থ দাবি হলো- অজ্ঞাতদের আসামি করে ঢাবি ও পুলিশ প্রশাসনের করা পাঁচটি মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার। পঞ্চম দাবি, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও নেতাদের যাতে পরবর্তীতে হয়রানি করা না হয়। এসব দাবি না মানলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। ষষ্ঠ দফায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীর যৌক্তির দাবিতে সহমত পোষণ করা সব শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের পদযাত্রা শুরু হয়। পরে পদযাত্রাটি শাহবাগ মোড়ে আসে। এদিন বিকাল ৩টা থেকে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সেখানেই অবস্থান নেন। এ সময় শাহবাগের আশপাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাদের শাহবাগ সরিয়ে দিতে রাত পৌনে ৮টার দিকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। এরপরই পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অ্যাকশনের মুখে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও টিএসসি এলাকায়।

এর আগে গত সোমবার (৯এপ্রিল) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনার পর কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা করেছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চেয়ে পরদিন তারা ফের আন্দোলন শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানিয়ে স্ব স্ব ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে।

Check Also

ড. কামালদের দিনের আলোতে খেলতে বললেন মতিয়া চৌধুরী

ঢাকার ডাক ডেস্ক :  সংবিধান প্রণেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনদের উদ্দেশ্যে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *