Wednesday , January 17 2018
Home / আর্ন্তজাতিক / রোহিঙ্গা নিধনের কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

রোহিঙ্গা নিধনের কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কথিত সন্ত্রাস দমনের নামে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ও হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী নির্যাতনের কথা স্বীকার করলো। এতদিন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমন কি সেনা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মিয়ানমারের বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ করেনি।

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক দেয়া বিবৃতি বলা হয়, কথিত সন্ত্রাস দমন অভিযানে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা, পরে চার মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ ও আন্তজার্তিক সম্প্রদায়। অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে। হিউম্যান রাটস ওয়াচ যার সচিত্র প্রতিবেদনও দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্যরা বলেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।

Check Also

আমিরাতের বিমান চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার কাতারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *