Home / দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পুরোটাই ইভিএমে ভোট

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পুরোটাই ইভিএমে ভোট

ঢাকার ডাক ডেস্ক  :     দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরো ভোটগ্রহণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সম্পন্ন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বছরই কেনা হচ্ছে আরো প্রায় ৩৫ হাজার ইভিএম মেশিন।

ইসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, আগামীতে সব নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি আসনে এই ভোটযন্ত্রে ভোটগ্রহণ করে বেশ সফলতা পায় ইসি। এরপর উপেজলা ও পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবহারে যায় ইসি। মাঝে বেশ কয়েকটি সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন, সিটি নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভোট পড়ার হার ইভিএমে কম। এ বিষয়টি ছাড়া এ যন্ত্রে ভোট নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। এছাড়া ইভিএমে কারচুপি রোধ, দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, ব্যয় সংকোচনসহ নানা কারণেই এর ইতিবাচক দিক রয়েছে। আবার সরকারও চায় ডিজিটাল বাংলাদেশের ভোট ব্যবস্থাপনাতেও প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার হোক। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভবিষ্যতে একযোগে সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে- ইভিএম প্রকল্পর পরিচালক জানান, প্রকল্পের  আওয়তায় দেড় লাখ ইভিএম কেনা হয়েছে (মূলত এগুলো একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই কেনা হয়েছিল)। সেগুলোর মধ্যে ৮২ হাজার মেশিন মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৩৪ হাজার ইভিএম মেশিন তাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে (২০২০-২০২১) আরো ৩৪ হাজার মেশিন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতিকেন্দ্রে গড়ে তিনটি করে ভোটকক্ষ থাকে। প্রতিটিতে একটি করে মেশিন ধরলে সংসদ নির্বাচনের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার ইভিএমের প্রয়োজন। চলতি অর্থবছর শেষে ইসির হাতে এই ভোটযন্ত্র দাঁড়াবে ১ লাখ ৭০ হাজার। এক্ষেত্রে প্রতিকেন্দ্রে ব্যাকআপ হিসেবেও কিছু ইভিএম রাখতে পারবে ইসি।

এদিকে ইভিএম পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ বিরাট একটি কৌশলগত কারিগরি বিষয়। এটি পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের দক্ষ টিমের অভাব রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষকও। এক্ষেত্রে কমিশনের পরিকল্পনা হচ্ছে স্কুল, কলেজের দক্ষ কারিগরি শিক্ষকদের প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে নেওয়ার। তারাই যাতে নির্বাচনের আগে মাঠ পর্যায়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

ইসি সচিব স্বাক্ষরিত ওই সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে- ইভিএম প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দ রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।

২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৭৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

২০১০ সালে দেশে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রচলন শুরু করে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কমিশন। সে সময় তারা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা করে প্রায় সাড়ে ১২শ ইভিএম তৈরি করে নেয়। ওই কমিশন এই যন্ত্রে ভোট নিয়ে সফলও হয়।

পরবর্তীসময়ে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ২০১৫ সালে ভোট নিতে গেলে একটি মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। সে মেশিনটি পরে আর ঠিক করতে পারেনি কমিশন। এমনকী বিকল হওয়ার কারণও উদ্ধার করা যায়নি। ফলে ওই মেশিনগুলো নষ্ট করে নতুন করে আরও উন্নত প্রযুক্তি ইভিএম তৈরির করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

কেএম নূরুল হুদার বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ২ লাখ ২০ হাজার করে ইভিএম তৈরি করে নিচ্ছে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে। এজন্য হাতে নেওয়া হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প।

ইভিএমের ভোটে আপাতদৃষ্টিতে ব্যালট ছিনতাই কিংবা সিল সুযোগ না থাকলেও যন্ত্রটির প্রতি বিরোধীদলগুলোর আস্থা আনতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বারবার বলছেন, এটি আগের ইভিএমের চেয়ে অনেক উন্নতমানের। এই মেশিন হ্যাক করা যায় না। ভবিষ্যতে সব নির্বাচনেই ইভিএমের ব্যবহার বাড়ানো হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর প্রথম সভা হয়েছে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। এক্ষেত্রে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩ সালের শেষ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x